1. multicare.net@gmail.com : news : Dainik Unsattor
মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

করোনার করুণ কাহিনি: যুদ্ধে সরাসরি শরিক ও পরিবারের প্রথম শহীদ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

মাকসুদুল হক

‘চিন্তা রোগের ওষুধ কোথাও খুঁজে পেলাম না।
চিন্তা যতই করি ততই বাড়ে গো সদাত দেয় যন্ত্রণা।।’
খোদা বকশ শাহ (১৯২৪-১৯৯০)

১. আজকের লেখার পটভূমি: আবারও যুদ্ধে যেতে হবে:
২০২০-এ মহামারি শুরু হলেও করোনা রোগের বিরুদ্ধে সম্মুখ লড়াই করার সুযোগ হয়নি। তবে এ বছর অনেক কাছের মানুষ– যেমন, আমার ব্যান্ড-এর এক তুখড় সদস্য ও তার স্ত্রী ২১ দিন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল বন্দি, আরেক বন্ধু যিনি আমার বাংলা লেখার শব্দ বিভ্রাট রোগ ডিস্লেক্সিয়া’র কথা জেনে স্বেচ্ছায় ও নিঃস্বার্থে ভুল শুধরে দেন, তার এক মাসের ঊর্ধ্বে অসুস্থতা ও কোয়ারেন্টিন, আরেক ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি বন্ধুর স্ত্রীর কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে, আমি প্রতিদিন ফোনে খবর নিয়েছি ঠিকই, কিন্তু সরাসরি কোভিড-১৯ বিরোধী যুদ্ধে কেবল উৎকণ্ঠিত হওয়া ছাড়া এ অবধি কোনও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারিনি।

সবকিছু পাল্টে গেলো ৫ জুলাই ২০২১ সালে। এ বছর যুদ্ধের ময়দানে আমি শরিক।

ভাগ্য আমাকে ‘ফ্রন্টলাইন ফাইটার’-এর ভূমিকায় ঠেলে দিয়েছে। আমি গর্বিত। কারণ, এটাকে কোনোভাবেই ‘দুর্ভাগ্য’ মনে করি না।

গেলো ৫ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই ২০২১– এই টানা ২২ দিনে ৮৩ বছর বয়স্ক আমার শ্বশুর শেখ আলী আহমেদ সাহেবের আকস্মিক অসুস্থতা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম।

নড়াইল জেলা শহরের স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা ও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে রোগীকে ঢাকাতে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানান্তর ও দিনরাত হাসপাতাল যাওয়া আসা শুরু হলো।

ইয়েলো জোন আইসিইউ, কোভিড নেগেটিভ হয়ে গ্রিন জোন আইসিইউ, এইচডিইউ হতে কেবিন, নিউমোনিয়ার শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেন লেভেল ওঠানামা, রক্তের হিমোগ্লোবিন ড্রপ করা, বিবিধ ভুতুড়ে ইনফেকশন, রক্তের আবেদন, রক্ত দান করা বন্ধুদের প্রাণ ছুঁয়ে যাওয়া সহানুভূতি, ডাক্তার বন্ধুদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও উপদেশ। ফের আইসিইউ, ফের কেবিন– এই মহড়া ১৮ দিনে পরপর তিনবার ঘটে গিয়ে ঈদের দিন বিকালে কোভিড-১৯ পজিটিভ।

কোভিড রেড জোনের ভেতরে ও বাইরে ছোটাছুটি, নন ইনট্রুসিভ ভেন্টিলেশন (এনআইভি), অতঃপর– ২৭ জুলাই ২০২১ রাত ১টায় আমার শ্বশুর দেহ ত্যাগ করলেন।

রোগীর স্বাস্থ্যের এই ঘণ্টায় ঘণ্টায় দ্রুত পরিবর্তন, এই ভালো তো এই খারাপ, এই অভিজ্ঞতার এই নির্মম সিকুয়েন্স জীবনে এর আগে আমার কখনও হয়নি।

‘এত কঠোর রেসট্রিকশনে থাকার পর ১৫ দিনে কোভিড নেগেটিভ থেকে কোভিড পজিটিভ হয় কী করে?’

এই প্রশ্নের উত্তরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বললেন– ‘আমরা জানি না’!

বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে কোভিড-১৯ রোগ সম্পূর্ণ ‘ভাগ্যের জুয়া খেলা’ এবং বিজ্ঞান আমাদের ১৬ মাসে জনগণের হাজারও প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি বা পারবে না। যতদিন বিজ্ঞান এই সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ ততদিন কে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত বা কে নয়– তা রোগী নিজে ও তার আত্মীয় স্বজনের সুচিন্তিত নির্ধারণের ওপরে নির্ভর করবে।

এমনকি ডেথ সার্টিফিকেটে ‘কোভিড ১৯-এর কারণে মৃত্যু’– তেমনটা লেখা নেই এবং জেনেছি তা লেখা হয় না। অত্যন্ত কঠিন ইংরেজি ডাক্তারি ভাষায় লেখা– ‘অপরিবর্তনীয় হৃৎপিণ্ড সংক্রান্ত শ্বাসবন্ধ হয়ে মৃত্যু’।

স্পষ্টত করোনাতে মানুষ মরে না, করোনার আতঙ্কে সারা বিশ্বে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। বিশ্বাসে ধ্বংস বা বিশ্বাসেই মুক্তি। আগে এই কলামে কয়েকবার বলেছি ‘অবিশ্বাসও এক ধরনের বিশ্বাস’।

হাসপাতলে মানুষের অসহায়ত্ব, কেউ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লে স্বজনদের চিৎকার ও কান্নাকাটির রোল- দীপ্রচিত্তে সহ্য করা ও নিজের আত্মাকে শক্ত করা ছাড়া কিছুই করার নেই।

সান্ত্বনা দেবার ভাষা আমি হারিয়ে ফেলেছি।

২. করোনা রোগীর উচ্চতর চৈতন্য ও চিন্তার বিস্তীর্ণ ব্যাপ্তি:

গেলো ১৮ জুলাই এই কলামে লিখেছিলাম, এই রোগ একটি ‘ইতিবাচক বনাম নেতিবাচক এনার্জির লড়াই’। কিন্তু যা জানতাম না– অসুস্থ রোগীর ধারে কাছে বা দূরে একটি মানুষও যদি নেগেটিভ চিন্তা বা অপায়া কথা বলে, তা সরাসরি রোগীর স্বাস্থ্যের উন্নতি বা অবনতি ঘটায়। এ যাত্রায় তার শক্ত প্রমাণ পেয়েছি।

অদ্ভুত বিষয় হলো, মুমূর্ষু কোভিড রোগীর অবচেতন চেতনাবোধের ওপরে আরেকটি উচ্চতর চৈতন্য বা ‘সুপার কনশাসনেস’ এসে তাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা চোখের সামনে প্রত্যক্ষ করলাম।

সেই বিস্ময়কর ‘কনশাসনেস’ রোগীকে মুহূর্তের মধ্যে পজিটিভিটি থেকে নেগেটিভিটির দিকে ধাবিত করতে খুব সহজেই পারে– উল্টো নেগেটিভ থেকে পজিটিভ করতেও পারে।

এমনও দেখলাম রোগী যখন প্রলাপ করে তখন অতীতের কথা যেমন স্পষ্ট মনে করতে পারে, ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে তাও আকারে ইঙ্গিতে বলতে পারে।

আমার শ্বশুরের শেষ বাক্যগুলোর অনেক উদাহরণের মাত্র একটি আজ শেয়ার করছি।

যখন উনি কেবিনে তখন ওনাকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হয়েছে ও স্বাভাবিক কথাবার্তা বলছেন, হঠাৎ বলে বসলেন, ‘এত মানুষ কান্না করছে কেন? তোমরা কাঁদছো কেন?’

ঠিক এক সপ্তাহ পর এই বিখ্যাত শিক্ষক তার হাজারো ছাত্রছাত্রী ও সমগ্র নড়াইলবাসীকে কান্নায় ভাসিয়ে বিদায় নিলেন।

এই প্রলাপ, এই বিলাপ ছিল তার বিদায় নেওয়ার পূর্বাভাস। যা আমরা উপস্থিত কেউ তখনও বুঝে উঠতে পারিনি।

আরও অনেক অপ্রিয় কথা বলে গেছেন, তা সত্য নাকি মিথ্যা হয়, তা বোঝা ও দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

আত্মীয়কুলে সবাইকে শান্ত এবং ইতিবাচক রাখা এই মুহূর্তে আমার সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ।

কেউ অধৈর্য বা মৃত্যু অতঙ্কে পড়ে গেলেই আরও বিপদ ঘনিয়ে আসতে বাধ্য।

৩. করোনায় করণীয়: সম্ভাব্য প্রতিকারের ব্যবস্থা:

করোনা যেহেতু বায়ুবাহিত রোগ না, তাই একে প্রতিরোধ করতে মাস্ক ব্যবহার আদৌ কোনও কাজ করে কিনা, তা বলা এই মুহূর্ত অসম্ভব। দেখা গেছে মাস্ক পরিধান করার পরেও কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যাও কিন্তু কম না।

আমাদের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছিল এ রোগ হাঁচি দ্বারা ছড়ায়। অর্থাৎ যে হাঁচি দিলে সনাতন বলে, ‘শিব শিব জীবো জীবো’, খ্রিষ্টান বলে ‘গড ব্লেস ইউ’ আর মুসলমান বলে ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

সারা জীবন জেনে এসেছি এক হাঁচিতে দেহ থেকে হাজারো রোগব্যাধি বিতাড়িত হয়। অথচ এখন হাঁচি হয়ে গেছে ‘কোভিড কোভিড করোনা করোনা’? এ কোনও রসিকতা ভাই?

হাঁচি দেওয়ার সময় মুখে হাত চেপে রাখতে হয়– এ কেবল অভদ্র মূর্খগণ বাদে সবাই জানে। কাউকে তা আলাদা করে শিক্ষা দিতে হয় না।

তাই ক’টা হাঁচি দেওয়ার কারণে যদি ঢাকা শহরে সবাই কোভিড-১৯ টেস্ট নেয়- একটা বিষয় অবধারিত যে ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ মানুষের ‘পজিটিভ’ রেজাল্ট আসবে।

তখন ‘আমরা কি করোনা আক্রান্ত’ এই আতঙ্কে হাসপাতালের দিকে ছুটবো?

১৮ জুলাই ২০২১-এর এই কলামে ‘কান্নার কোরবানি ও প্রাণশক্তির বেলোর্মি’-তে আমি বলেছিলাম যে আত্মরক্ষার জন্য যেসব ‘পশ্চিমা অনুশাসন’ আমরা মানতে বাধ্য হচ্ছি: যথা মাস্ক, হাত ধৌতকরণ, সামাজিক দূরত্ব ইত্যাদি– সবই ফেইল করছে।

পশ্চিমা বিজ্ঞান যেকোনও জীবন রক্ষার পদ্ধতি যার সঙ্গে সরাসরি ব্যবসার সম্পৃত্ততা নেই– তা একেবারেই পাত্তা দেয় না, তা আমরা ইতোমধ্যে বুঝতে পারছি।

তবে আমাদের মস্তিষ্কগুলো এমনি ঘোলা ও নিস্তেজ হয়ে গেছে যে বিকল্প কোনও সমাধান বা এই রোগ নিয়ে বিকল্প পাঠ– তা দেখা যাচ্ছে না—বরদাশত করাও হচ্ছে না।

ধরা যাক ‘স্টিম ইনহেলাশন’ বা বাষ্প শ্বাসগ্রহণ, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত বছর দীর্ঘক্ষণ টেলিভিশনে বুঝিয়েছিলেন। এই অতি প্রাচীন ও সহজ গলা, নাক, কান ও শ্বাসযন্ত্র প্রতিরক্ষা পদ্ধতি জনগণ তো বহু দূরের কথা– বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কি একটুও পাত্তা দিয়েছে বা আমলে নিয়েছে? নেয়নি, কারণ ‘মামুলি’ গরম পানি দিয়ে নাক মুখে সেঁক দেওয়া-নেওয়াতে ‘ব্যবসা বা ধান্দা’র কোনও অপশন নেই।

অথচ চীন, জাপান ও তাইওয়ানে করোনাবিরোধী রাষ্ট্রীয় প্রচারে স্টিম ইনহালেশানকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর ফলে ওই দেশগুলোতে করোনার ‘অসভ্য’ বিস্তারকে রোধ করতে বিশাল ভূমিকা রেখেছে।

যেমন, জাপানে এই তথাকথিত ‘ভয়াল মহামারি’র মাঝে অলিম্পিক চলছে।

৪. প্রয়োজন পশ্চিমা নাকি গরিমা বাংলার স্বাস্থ্য সেবা?

পশ্চিমা চিন্তা, পশ্চিমা কৌশল, পশ্চিমা সমাজ ব্যবস্থা এমনকি পশ্চিমা মূল্যবোধ, ভাববাদ ও আদর্শের সঙ্গে বাঙালির মিলের চেয়ে অমিলই বেশি।

আমাদের ইতিহাস বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে যেকোনও সমস্যা, যেকোনও জীবন মরণের সন্ধিক্ষণে বাঙালি যখন নিজের দিকে তাকিয়েছে সে তখনই বিজয়ের বেশ ধারণ করেছে। সে তার নিজের প্রতিভার ওপরে ভর করে কার্যত ও যুগোপযোগী সমাধান উপস্থাপন করেছে।

অথচ আমি আগে কয়েকবার বলতে বাধ্য হয়েছি, ‘আমরাই আমাদের সব চাইতে বড় শত্রু’।

বিদেশিদের তোষামোদি করতে করতে আমরা কী পরিমাণ আত্মমর্যাদা হারিয়ে নিজেদের সঙ্গে অবিচার করছি তা নিজেরা কি একটুও বুঝি?

দেশে ও বিদেশে এত ‘করোনা বিশেষজ্ঞ’র ছড়াছড়ি ও তাদের সেই অতি পরিচিত ভাঙা রেকর্ড শুধুই পশ্চিমা শাশ্বত বিজ্ঞানের সুরে গান করে ও শিখিয়ে দেওয়া তোতাপাখির মতো কথা বলে।

এত ‘বিশেষ জ্ঞান’সম্পন্ন মানুষ থাকা সত্ত্বেও যদি ১৬ মাসে কার্যত সমাধান, বা আত্মরক্ষার জন্য নিদেনপক্ষে কোনও কৌশল উপস্থাপন করা হতো, তা মেনে নিতাম।

তেমন কিছুই কি হয়েছে?

এই তথাকথিত ভাইরাসের চরিত্র ও গঠন কী, তা নিয়ে যখন এতটা অস্পষ্ট ও ভাসাভাসা ধারণা থাকে– এই রোগ থেকে মুক্তি কামনা আমরা করি কোন সাহসে?

৫. কিছু প্রশ্ন ও প্রস্তাবনা: দেখা হোক চক্ষু মেলিয়া

আমাদের বুনিয়াদি সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্যগত গরিমার অফুরন্ত ভাণ্ডারে কি এই রোগ চিকিৎসা পদ্ধতি জানা নেই?

এ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা কি করা হচ্ছে? আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে এটাই কি প্রথম মহামারি?

আগে কোন পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো এবং মানুষ কীভাবে সুস্থ থাকতো– তা জানা, বোঝা ও প্রয়োগ করা কি এ সময়ে সব বাতিলের খাতায় চলে গেছে?

রাষ্ট্র এত এত লোকের সঙ্গে, এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলছে, পরামর্শ করছে, সমাধান খুঁজছে, সেখানে আমাদের আবহমান বাংলার সংস্কৃতির লতাপাতার ভেষজ গুণ বোঝা ব্যক্তিবর্গ অনুপস্থিত কেন? কী কারণে হেকিমি, ইউনানি, আয়ুর্বেদি, বৈদ্য এমনকি হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞদের ধারে-কাছে ভিড়তে দেওয়া হচ্ছে না?

কী কারণে বিষাক্ত রাসায়নিক ও ক্ষেত্রবিশেষে অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর ওষুধের বিজ্ঞাপন চতুর্দিকে সয়লাব অথচ ভেষজ প্রতিকারের ওষুধ উপেক্ষিত, নিরুৎসাহিত এবং এক প্রকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞায় আবদ্ধ?

উন্নত বিশ্বে এই মহামারি রোধ করার জন্য যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ ‘অল্টারনেটিভ অ্যান্ড ট্রাডিশনাল মেডিসিন’ বা বিকল্প ও ঐতিহ্যগত ওষুধের দিকে ঝুঁকছে তখন আমরা কেন নীরব দর্শক হয়ে দেখছি ও অলসতার হাই তুলছি?

আমাদের গরিমা সংস্কৃতির অত্যন্ত সম্মানজনক বয়োজ্যেষ্ঠ, অগ্রজ ব্যক্তিবর্গ ও মুরুব্বিগণ, যথা–দরবেশ, ফকির, সাধুগুরু, অলি এ কামেল, আউলিয়া, কুতুব ছাড়া বিভিন্ন ধর্মের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আধ্যাত্মিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে রাষ্ট্র তথা সরকার জরুরি ভিত্তিতে আলাপে বসলে আমি বিশ্বাস করি এই করোনার সমস্যা বিহিত করা সম্ভব।

আর যদি কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়ে থাকে তথাকথিত কোভিড-১৯ আক্রমণের প্রাথমিক নিদর্শন তা রুখে দেওয়ার মতো ভেষজ ওষুধ আমাদের বুনিয়াদি স্বাস্থ্য সেবায় অনেক আছে।

এসব কথা বিজ্ঞান বিশ্বাস করুক আর নাই করুক; আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি ও তার উপকার পাচ্ছি।

যেহেতু আমি কণ্ঠশিল্পী। গলা আর শ্বাসযন্ত্র পরিষ্কার ও সুস্থ রাখার জন্য বহু বছর ধরে ভেষজ ঔষধি ব্যবহার করছি।

৬. ভ্যাকসিন রাজনীতি ও বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য:

বাংলাদেশ সম্ভবত বিশ্বের প্রথম দেশ যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন যখন আবিষ্কৃত হয়নি, পরীক্ষামূলক অবস্থায় ছিল, সেই সময়ে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ করে আগাম বুকিং দিয়ে ফেলে।

সেই সুবাদে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট আমাদের ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরু করলেও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ভারতে ছড়িয়ে পড়লে তা আসা বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর বাংলাদেশকে ধনী রাষ্ট্রগুলো যথা আমেরিকা, ইউরোপ, চীন ও রাশিয়া কী পরিমাণ নাকানি চুবানি খাইয়েছে তা সবাই বিস্মিত হয়েই দেখেছি।

নেপথ্যে বহু বিদেশে অবস্থানরত দেশপ্রেমী বাংলাদেশিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কিছু ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে এসেছে।

তাছাড়া আরও অনেক ভ্যাকসিন বাংলাদেশ অনেক চড়া মূল্যে ক্রয় করেছে নিঃসন্দেহে। তবে ভ্যাকসিন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি আমাদের সহজে স্বস্তি দিচ্ছে না।

একদিকে ভূরাজনৈতিক সুপার পাওয়ারের ভ্যাকসিন কেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব, অপর দিকে ধনী রাষ্ট্রদের প্রয়োজন অতিরিক্ত ভ্যাকসিন মজুত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ক্রয় ক্ষমতা থাকলেও এই কাকুতি মিনতি, দেন দরবার ভিক্ষাবৃত্তির অবলম্বন না করে তা জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব ঠেকছে।

আর বাড়তি মানসিক চাপ হলো দুই ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর আরেক ডোজ ‘বুস্টার’ নিতে হবে মর্মে প্রচারণা এই প্রমাণ করে যে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র গ্রহণযোগ্য অবলম্বন ‘ভ্যাকসিন’- তা ক্রয় বা জোগাড় করতে বাংলাদেশকে আগামীতে দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হবে।

৭. অনুরোধ: সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ায় এই যুদ্ধের হ্যাশট্যাগ #covid19resistancebangladesh ব্যবহার করে ফ্রন্টলাইন ফাইটারদের অনুপ্রাণিত করুন।

লেখক: সংগীতশিল্পী

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

সর্বশেষ খবর

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট